ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

সরকারের সব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশে গরিব থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

  • আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৪ ১০:১১:১৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৪ ১০:১২:১৪ অপরাহ্ন
সরকারের সব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশে গরিব থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দাড়িয়ারকুল একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন। এসময় তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশবাসীকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করতে বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা বহুমাত্রিক কর্মসূচি হাতে নিয়ে প্রত্যেক মানুষকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারের নেয়া কর্মসূচিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশে কেউ গরিব থাকবে না। গতকাল শুক্রবার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দরিয়ারকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আমার বাড়ি, আমার খামার, জনগণকে আর্থিক অনুদান প্রদান, সর্বজনীন পেনশন প্রকল্প এবং গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ প্রদান, সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করার জন্য যুবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি বহুমাত্রিক কর্মসূচির বর্ণনা দেন। প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র সঞ্চয় নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে সারা দেশে সমবায় সমিতি গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ জন্য প্রতিটি এলাকায় সমবায় সমিতি গঠন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে আওয়ামী লীগ নেতাদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করতে সারা দেশে সমবায় গঠনের ধারণা ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখবেন না : এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখতে সবার প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনেও চাষাবাদ হচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকা কোটালিপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার সব অনাবাদি জমি উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দারিদ্র্য থেকে তৃণমূলের মানুষকে মুক্তি দিতেই প্রথমবার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার সমবায়ের ওপর জোর দেয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সব পর্যায়ে সমবায় পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে খাদ্য নিশ্চয়তা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সমবায়ভিত্তিক কৃষির ওপর জোর দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তনও আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সে প্রচেষ্টা থেমে যায়। তিনি বলেন, আমরা কর্মসংস্থান ব্যাংক খুলেছি যাতে যুবকরা বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে সাবলম্বী হতে পারে। চাকরির পেছনে না ছুটে, নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাই যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি। পরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় চত্বরে দরিদ্রদের মাঝে রিপার মেশিন, সার, ল্যাপটপ, ১০টি সাইকেল, ১০টি রিকশা ভ্যান, ৩০টি সেলাই মেশিন এবং ৩৮ জনকে ৪০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান, ১০ জোড়া কবুতর এবং ৩৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় সুবিধাভোগীরা তাদের সরঞ্জাম ও আর্থিক অনুদান পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম।
শেখ হাসিনার দেয়া ৯ দশমিক শূন্য ৫ একর জমিতে গড়ে ওঠে দরিয়াকুল সমবায় সমিতি। দরিয়াকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতির উপদেষ্টা শেখ হাসিনা সমবায় পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি সমবায়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমবায় ব্যবস্থায় জমির মালিকানা পরিবর্তন হবে না এবং ফসলকে তিন ভাগে ভাগ করা হবে। প্রতিটি ফসলের একটি অংশ মালিক ও কৃষকরা এবং সমবায়ের কাছে একটি অংশ যায়। তিনি অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান জানান। সরকার দেশবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও কাজ করছি। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সুবিধাভোগীদের ভবিষ্যৎ জীবন সুরক্ষিত করবে। শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি পরিবেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ষাকালে দলের প্রত্যেক সদস্যকে অন্তত তিনটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বানও জানান। এর আগে শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছার পরপরই শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের শহীদ সদস্যদের জন্য প্রার্থনা করেন।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের শিকার অন্যান্য শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় এক প্রার্থনা সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স